রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন
দেশের বাজারে রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে আলু। যা সরকার নির্ধারিত দামের থেকে দ্বিগুণ অর্থাৎ ৭০ টাকা প্রতিকেজি। বাজার নিয়ন্ত্রণে তাই এবার আলু আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে পেঁয়াজের বাজারের সংকট ক্রমেই বাড়ছে। মাত্র দুই-দিনের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। যা সরকার নির্ধারিত দামের থেকে প্রায় আড়াই গুণ বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই দাম আরও বাড়তে পারে।
এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরবরাহ বাড়াতে এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে আলু আমদানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে দেয়ায় মাত্র দুই দিনেই পণ্যটির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। কিন্তু সম্পূর্ণ দেশীয় উৎপাদনে জোগান দেওয়া আলুর বাজার বৃদ্ধির কারণ খুঁজে পাচ্ছে না সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। এদিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমদানিকৃত আলু বাজারে সরবরাহ না করা গেলে দেশীয় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, নভেম্বরের শেষেই বাজারে নতুন আলুর আসতে পারে। তখন যদি আমদানি আলু বাজারে আসে তাহলে কৃষক ন্যয্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
এদিকে, আগ্রহী আমদানিকারকদের অনুমতি নেওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু আমদানি বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রখার পরও বেশিরভাগ পণ্যের দামই বেড়েছে। অন্যদিকে আমদানির অনুমতি পাওয়ার পরও ব্যবসায়ীরা আমদানি না করায় বাজারে এর কোনো প্রভাব দেখা যায় না। সর্বশেষ ডিম আমদানি অনুমতি দেওয়ার পর এক মাস পার হলেও এখনো বাজারে এর সরবরাহ শুরু হয়নি, ফলে আলু আমদানির প্রভাব নিয়েও শঙ্কা জানিয়েছেন ব্যবসায়ীসহ বাজার-সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী এবার প্রতিকেজি আলুর উৎপাদন খরচ প্রায় ১১ টাকা। কিন্তু খুচরা বাজারে গত দুই মাস ধরে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা সর্বশেষ ৩০ অক্টোবর বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা কেজি দরে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মধ্যস্বত্বভোগীরাই ধাপে ধাপে কৃত্তিম সংকট তৈরি করে আলুর দাম বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে সরকারের দাবি, চলতি বছর চাহিদার বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে দেশে। তাদের হিসাবে এক কোটি ১২ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। যা মোট চাহিদার থেকে বেশি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বছরে দেশে আলুর চাহিদা ৮৫ থেকে ৯০ লাখ টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ১ দশমিক ১২ কোটি টন আলু উৎপাদিত হয়। তবে কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণে ঘাটতি এবং বীজের জন্য আলু প্রয়োজন হওয়ায় আরও আলু উৎপাদন প্রয়োজন। আলুর উৎপাদন কম হওয়া নিয়ে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন উদ্বেগ প্রকাশ করলেও সরকার এ বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে তাদের।
কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বলেন, যদিও সরকার এ বছর এক কোটি টনের বেশি আলু উৎপাদনের কথা জানিয়েছে, বাস্তবে ৮০ লাখ টনের বেশি আলু উৎপাদন হয়নি। ফলে এক ধরনের সংকট রয়েছে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আলু আমদানির পরিকল্পনার বিপক্ষে ছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। ফলে সে সময় ব্যবসায়ীদের আলু আমদানির অনুমতি দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু নির্ধারিত দামে বাজারে আলু ও পেঁয়াজের দাম কার্যকর না হওয়ায় আলু আমদানি করা হতে পারে বলে জানিয়েছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।